সাকিবের রেকর্ডের দিনে ইংল্যান্ডকে হারাল বাংলাদেশ

0 ১৫০
বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ। ছবি : বিসিবি

‘হোম অব ক্রিকেট’ শেরেবাংলায় নিজেদের চেনা কন্ডিশনে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। হেরেছে দুই ওয়ানডেতেই। টানা দুই ম্যাচ হেরে উঁকি দিচ্ছিল হোয়াইটওয়াশের শঙ্কা। কিন্তু সাগরিকায় সেই শঙ্কার মেঘ উড়িয়ে জ্বলে উঠল বাংলাদেশ। ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখালেন সাকিব আল হাসান। তাঁর রেকর্ডময় ম্যাচে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল লাল-সবুজের দল।

সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডকে ৫০ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে শেষ করল তামিম ইকবালের দল। ব্যাটে-বলে দারুণ করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন সাকিব আল হাসান।

এই ম্যাচেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন সাকিব। নামের পাশে ২৯৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচটি শুরু করেন তিনি। একে একে ৪ ইংলিশ ব্যাটারকে ফিরিয়ে স্পর্শ করেন রেকর্ড। সবমিলিয়ে বিশ্বের ১৪তম বোলার ও ষষ্ঠ স্পিনার হিসেবে আজ ৩০০ উইকেটের রেকর্ড গড়লেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

আজ সোমবার (৬ মার্চ) আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ১০ উইকেটে স্কোরবোর্ডে ২৪৬ রান তুলেছে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন সাকিব আল হাসান। ৭১ বলে তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল সাত বাউন্ডারি দিয়ে।

জবাব দিতে নেমে দারুণ শুরু করেন দুই ইংলিশ ওপেনার ফিল সল্ট ও জস বাটলার। দুজনে মিলে গড়ে তোলেন প্রতিরোধ। তবে জমে যাওয়া এই জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরান সাকিব আল হাসান।

ইনিংসের নবম ওভারে সাকিবের শর্ট বল খেলতে গিয়ে টাইমিং মিস করেন ওপেনার সল্ট। তালগোল পাকিয়ে ক্যাচ তুলে দেন কাভারে। সেখানে থাকা মাহমুদউল্লাহ ক্যাচ লুফে নিতে ভুল করেননি। ২৫ বলে ৩৫ করে থামেন সল্ট, ভাঙে ৫৪ বল স্থায়ী ৫৪ রানের জুটি।

ওয়ানডাউনে নামা ডেভিড মালানকে রানের খাতা খুলতে দেননি ইবাদত। তরুণ পেসারের বলে মিডঅনে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মালান। এরপর বোলিংয়ে এসেই সাকিব বিদায় করেন জেসন রয়কে। দুর্দান্ত ডেলিভারিতে রয়কে বোল্ড করে মাঠ ছাড়া করেন সাকিব।

৫৫ রানে তিন উইকেট হারানোর চাপ সামলে প্রতিরোধ গড়েন ভিন্স ও স্যাম কারান। ২৪তম ওভারে কারানকে (২৩) রানে বিদায় করে এই জুটি ভাঙেন। এরপর সাকিব এসে তুলে নেন জেমস ভিন্সের উইকেট। ৪৪ বলে ৩৮ রান করে সাকিবের তৃতীয় শিকার হন ভিন্স। একে একে উইকেট হারানোর মাঝে ইবাদতের ফাঁদে পড়েন মঈন আলি।

তবে উইকেটে থেকে লড়াই জমিয়ে তোলেন জস বাটলার। টেল এন্ডারদের নিয়ে ইংলিশদের চাপ সামলাতে চেষ্টা করেন অধিনায়ক। কিন্তু তাকেও টিকতে দেয়নি বাংলাদেশ। তাইজুলের স্পিনের ফাঁদে পড়ে ফেরেন ইংলিশ অধিনায়ক। তিনি ফিরলে শেষ পর্যন্ত ১৯৬ রানে থেমে যায় ইংল্যান্ড।

এর আগে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এই ম্যাচেও টসে জিতে বাংলাদেশ। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খায় বাংলাদেশ।

প্রথম দুই ওয়ানডেতে ফ্লপ থাকা লিটন দাস আজও ব্যর্থ হলেন। ইংলিশ পেসার স্যাম কারানের গতিতে বিধ্বস্ত হলেন প্রথম ওভারেই। ইংলিশ পেসারের করা অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে বেরিয়ে যাওয়া বল ছেড়ে না দিয়ে খেলার চেষ্টা করেন লিটন। কিন্তু টাইমিং ঠিক না থাকাতে ব্যাটের কানায লেগে বল চলে যায় কিপারের হাতে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে গোল্ডেন ডাকে ফেরা লিটন আজ টিকলেন তিনবল। তবে রানের খাতা খুলতে পারেননি। ক্যারিয়ারে প্রথমবার টানা দুই ম্যাচে আউট হলেন শূন্য রানে।

লিটনের পর তামিমকেও নিজের শিকার বানান কারান। তৃতীয় ওভারে বাঁহাতি এ পেসারের লেগ স্টাম্পের বলে ফ্লিক করেতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন তামিম। সেখানে থাকা জেমস ভিন্স ক্যাচ লুভে নিয়ে ১১ রানে মাঠ ছাড়া করেন তামিমকে।

১৭ রানে দুই উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেই বিপদ সামলানোর চেষ্টা করেন মুশফিক ও শান্ত। তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ৯৮ রানের জুটি। এর মধ্যে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। কিন্তু এরপরই রানআউটের কাটায় পড়ে বিদায় নিতে হয় শান্তকে। ৭১ বলে ৫৩ করে থামেন শান্ত।

শান্ত ফেরার পর হাফসেঞ্চুরির দেখা পান মুশফিক। ৬৯ বলে ৪ বাউন্ডারিতে মুশফিক স্পর্শ করেন ৪৩তম ওয়ানডে হাফসেঞ্চুরি। হাফসেঞ্চুরির পর সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে দলকে টানেন মুশফিক। কিন্তু থিতু হয়ে মুশফিক নিজেও বিদায় নেন। আদিল রশিদের গুগলিতে বোল্ড হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন মুশফিক। ফেরার আগে ৭০ রান করেছেন মুশফিকুর রহিম। ৯৩ বলে তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চারের মার। মুশফিকের বিদায়ের পর একে একে হতাশ করেন আফিফ, মাহমুদউল্লাহ, তাইজুলরা।

তবে দলের বিপদে হাল ধরেন সাকিব আল হাসান। পাঁচ নম্বরে নেমে তিনি উপহার দেন ৭৫ রানের চমৎকার ইনিংস। তার ব্যাটে চড়েই আড়াইশর কাছাকাছি যায় বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : ৪৮.৫ওভারে ২৪৬/১০ (তামিম ১১, লিটন ০, শান্ত ৫৮, মুশফিক ৭০, সাকিব ৭৫, তাইজুল ২, মাহমুদউল্লাহ ৮, আফিফ ১৫, মিরাজ ৫, ইবাদত ১, মুস্তাফিজ ০ ; ওকস ৮-০-২৭-১, কারান ৮-১-৫১-২, আর্চার ৮.৫-১-৩৫-৩, মঈন ৯-০-৪৮-০, রশিদ ৫-০-২১-২)।

ইংল্যান্ড : ৪৩.১ ওভারে ১৯৬/১০ (জেসন রয় ১৯, সল্ট ৩৫, মালান ০, জেমস ৩৮, কারান ২৩, বাটলার ২৬, মঈন ২, ওকস ৩৪, রশিদ ৮, রেহান ২, আর্চার ৫ ; সাকিব ১০-০-৩৫-৪, মুস্তাফিজ ৬.১-০-২৫-১, মিরাজ ৮-০-৪৬-১, তাইজুল ১০-০-৫২-২, ইবাদত ৯-০-৩৮-২)।

ফল : ৫০ রানে জয়ী বাংলাদেশ।

সিরিজ : ২-১ ব্যবধানে জয়ী ইংল্যান্ড

Leave A Reply

Your email address will not be published.