বিদেশি ঋণের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা বাংলাদেশের

বিদেশি ঋণের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা বাংলাদেশের

৩৩৩

বাংলাদেশের পর্যবেক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে ’ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ প্রকল্প চুক্তি সম্পূর্ণ করার জন্য চীন থেকে নেওয়া ঋণের ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে দেশ। এ ধরনের ”মেগা- প্রকল্পগুলি” একটি ক্রমবর্ধমান বোঝা হিসেবে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। এতে কওে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশের ক্ষ জনশক্তি উৎপাদনের বিষয়টিও। সংবাদ সূত্র: A24 News Agency

বিশেষ করে চীন যখন তারে শ্রমিকদের বিদেশে বাস্তবায়ন করা প্রকল্পগুলিতে কাজ করার জন্য নিয়ে আসে। অথচ প্রকল্পটিতে অংশীদারিত্ব আছে দু’দেশেরই। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক রুকসানা কিবরিয়া বলেন, ”এখানে রোড এন্ড বেল্ট উদ্যোগে বাংলাশেীরাও পার্টিসিপেন্ট।

২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঢাকা এসেছিলেন। সেখানে আমরা চুক্তি সই করি এবং আমাদেরকে বলা হয় চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি স্ট্রেটেজিক পার্টনারশীপ হয়েছে। এখন ওরা যখন ওদের শ্রমিক নিয়ে আসছে তখন আমাদের শ্রমিকরা কিন্তু ডিপ্রেসড হচ্ছে।

তারা তাদের প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বা বঞ্চিত করা হচ্ছে। অথচ অবস্থা এমন না যে আমাদের শ্রমিকদের সেখানে কাজ করার যোগ্যতা নেই।” অধ্যপক রুকসানার আশংকা, ”এই যে প্রকল্পগুলো হচ্ছে, এগুলো যদি এতো ব্যায়বহুল হয়, যে আমাদের পক্ষে দেশ হিসাবে বা জাতি হিসাবে ঋণটা ফেরত দেয়া আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে, তখন কি হবে?” পর্যবেক্ষকরা মনে করেন যে অন্য বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বড় প্রকল্প স্থাপনের জন্য ঋণ প্রদান করে, যেটা চীনের মতো নয় কারণ চীনের ঋণ সীমিত স্বার্থের বিনিময়ে ঋণ প্রদান করে এবং খারাপ ফলাফল নিয়ে আসে। তারা বাংলাদেশকে সতর্ক করছে যেন শ্রীলংকায় ঘটে যাওয়া পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এখানে না হয়।

শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরের প্রকল্পের জন্য চীন অর্থায়ন করেছিলো। এই প্রকল্প শ্রীলঙ্কার নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি চীনের সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছিল কিন্তু এখন শ্রীলংকা এর ব্যয়ের বোঝা টানতে অক্ষম। এজন্যই তাই বন্দরটি চীনের কাছে হস্তান্তর করতে হচ্ছে দ্বীপদেশটি। এদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড: আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ”এই ধরনের অবকাঠামোগত প্রকল্পে অনেক সময় আমরা দেখেছি যে তার বোঝাটা রাষ্ট্রের জন্য বড় হয়ে যায়।

উদাহরণসরুপ বলা যায় শ্রীলংকার হাম্বানটোটা বন্দরের কথা। আমরা যখন এই ধরনের প্রকল্পগুলো হাতে নিচ্ছি তখন সেই অর্থনৈতিক বিশ্লেষনটি প্রয়োজন- আমরা কতটুকু সক্ষম আছি এবং এখান থেকে আমারা কতটুকু ট্রেড ও কমার্সের সুবিধা নিতে পারবো। এর ওপরেই রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত আমরা কোন লেভেল পর্যন্ত এর ভার বহন করতে পারবো।”

Comments are closed.