পুঠিয়ায় মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক কর্তৃক বেতনের চাইতে বেশি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

0 ২৫২

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া কান্দ্রা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মৌলভী কর্তৃক বেতনের চাইতে বেশি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত কমিটি গঠন ২৯ মাসে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলের সত্যতা পায়। তবে বোর্ডর অনুমোদনের কোন বৈধ্য কাগজ পত্র না পেয়ে মাদ্রাসার সুপার ও সাবেক সভাপতি এবং সহকারী শিক্ষক কর্তৃক যোগসাজোসে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলনের বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার কান্দ্রা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মৌলভী মওলানা মোঃ আব্দুস সবুর সরকার মাদ্রাসার শুরু থেকেই কর্মরত আছেন। তিনি ১৬ হাজার টাকা বেতন স্কেল মোতাবেক ১৮ হাজার ১৭৭ টাকা পেতেন। ইতিমধ্যে ভূল বসত বোর্ড কর্তৃক ২২ হাজার টাকা বেতন স্কেলের পত্র পায় ২০১৬ সালে। কিন্তু কমিটি কর্তৃক সে সময় থেকে ২২ হাজার টাকা স্কেলে বেতন তাকে দেওয়া হয়নি। কিন্তু ২০২০ সালের ফেব্র“য়ারী মাস থেকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আকবর হোসেন ও মাদ্রাসার সুপার মওলানা মোঃ আনোয়ার হোসেনের যোগ সাজসে ২২ হাজার টাকা বেতন স্কেলে ২৮ হাজার ২৬০ টাকা বেতন ভাতা উত্তোলন শুরু করে।

পরবর্তী ২৯ মাস পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে জানা জানি হলে ২০২২ সালে জুন অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত কমিটি ২৯ মাসের বেতন ও বোনাস বাবদ ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪৩৬ টাকা অতিরিক্ত টাকা তোলার সত্যতা পান। সেই টাকা সকারী কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করেন।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মৌলভী মওলানা মোঃ আব্দুস সবুর সরকার জানান, আমি সঠিক খাচ্ছি। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুয়ায়ী নিয়েছি। বর্তমানে যে ঘটনাটি ঘটছে তা আমার জানার বাইরে। তবে আমি ২০০২ সালে এমপিও ভুক্ত হই। ২০১০ সালে ১০ম কোর্ডে বেতন প্রাপ্ত হই। ২০১৬ সালে আমি স্কেল পরিবর্তন হয়। ২০১৯ সালে আমি ডিও অফিসে সংশোধনের আবেদন করি। এ সংক্রান্ত সারাদেশ থেকে রিট করা হয় ২০১৮ সালে ২৫ জানুয়ারীতে রায় হয়। ২০২০ সালে কপি পেয়েছি। সেই মোতাবেক ততকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আকবর আলী থাকা অবস্থায় ১৬ হাজার টাকার স্থলে ২২ হাজার টাকা উত্তোলন করি। এরপর এডক কমিটিতে পুঠিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ খান ঝন্টু আসার পরও ২০২২ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত সেই বেতন উত্তোলন করি। আর আগষ্ট মাস থেকে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন বন্ধ করে দেন। কিন্তু আমাদের চাকুরীতে ১৬ বছর পর বেতন স্কেল বাড়ে সেই মোতাবেক ২০১৮ সাল থেকে আমার বেতন বড়ার কথা। সেই মোতবেক আমি বেতন পাচ্ছি।

মাদ্রাসার সুপার মওলানা মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নির্দেশনা মোতাবেক টাকাগুলো সরকারী কোষাগারে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও পুঠিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফ খাঁন ঝন্টু জানান, সহকারী শিক্ষক কর্তৃক অতিরিক্ত টাকা উত্তোলনের বিষয়টি আমি জানতে পেরে তদন্ত কমিটি গঠন করি। আর বিধি মোতাবেক সেই টাকা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লায়লা আখতার জাহান জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। মাদ্রাসার সুপার এসেছিলো। আমি বলেছি, সরকারী কোষাগারে টাকা জমা দিতে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ কে এম নূর হোসেন নির্ঝর জানান, বিষয়টি আমার জানা নাই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.