প্রতিমণ আমে বেড়েছে ৬-৮শ’ টাকা সাপাহারে আম বাণিজ্যের শুরুতেই সন্তুষ্ট আম চাষিরা

১৯৮

মনিরুল ইসলাম, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: আমের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত নওগাঁর সাপাহারে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আম
বাণিজ্য। মৌসুমের শুরুতেই আমের দাম ভালো পেয়ে সন্তুষ্ট আম চাষিরা। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে দ্বিগুণ দামে আম বিক্রি হচ্ছে। যাতে করে আম বাণিজ্যের শুরুতেই বাজিমাৎ করেছেন এলাকার আম চাষিরা।

শনিবার (১১জুন) সরেজমিনে আম সদরের আমবাজারে গিয়ে জানা যায়, জেলা প্রশাসন কর্তৃক দেওয়া তারিখ মোতাবেক বিভিন্ন প্রজাতির আম এসেছে বাজারে। আম বেচা-কেনার ধুম পড়েছে স্থানীয় আম বাজারে। আমের পসরা নিয়ে বসে আছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। চলতি বছরে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ মূল্যে আম কেনা-বেচা হচ্ছে বলে জানান ক্রেতা বিক্রেতারা। যার ফলে অনেকটা স্বস্তি প্রকাশ করছেন আম চাষিরা।তবে কাঁচা বাজারের মূল্য নির্ভর করে আমদানির উপর। প্রাথমিক অবস্থায় আমদানি কম থাকায় আমের বাজার মূল্য ভালো। আমদানি বাড়লে আমের দাম কমার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

চলতি বছরে প্রতি মণ গুটি আম বিক্রয় হচ্ছে ৮-১২শ’ টাকা যা গত বছরে ছিলো ২-৫ শ’ টাকা। ক্ষীরসাপাত গত বছরে প্রতি মণের দাম ছিলো ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকা বর্তমান বাজার মূল্য ২২-২৬শ’ টাকা। নাগফজলী গত বছরে প্রতিমণের দাম ছিলো ৮ শ’ থেকে ১ হাজার টাকা।

বর্তমান বাজার মূল্য ১৬শ’ থেকে ২ হাজার টাকা। গত বছরে প্রতি মণ ল্যাংড়ার দাম ছিলো ৮শ’ থেকে ১২শ’ টাকা । বর্তমান বাজার মূল্য ১২-১৮শ’ টাকা। গত বছরে গোপালভোগ জাতের আম প্রতিমণ বিক্রি হয়েছে ৮শ’ থেকে ১২শ’ টাকা। বর্তমান বাজার মূল্য ১২শ’ থেকে ১৮শ’ টাকা। এছাড়াও আ¤্রপালি জাতের আম ভাঙার তারিখ ২ শে জুন নির্ধারিত থাকলেও কিছু কিছু বাগানের আম পাকতে শুরু করেছে। যার ফলে কৃষি অফিস থেকে ছাড়পত্র নিয়ে আ¤্রপালি জাতের আম বিক্রয় হচ্ছে বাজারে। যা প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩৫শ’ টাকা। যা গত বছরে প্রতি মণ বিক্রি হয়েছিলো ২ হাজার থেকে২৫শ’ টাকা।

সাপাহার বাজারে আম ক্রেতা রায়হান আলী বলেন, গত বছরের তুলনায় এ ভচরে আমের দাম অনেক বেশি। চলতি বছরে প্রতি মণ আমে দাম বেড়েছে ৫শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। কোন কোন জাতের আমে প্রায় দ্বিগুণ দামে আম কিনছি।

উপজেলার বৈদ্যপুর গ্রামের আম বিক্রেতা আলতাব হোসেন বলেন, বর্তমানে আমের বাজার মূল্য বেশ সুবিধাজনক। এই ধারা অব্যহত থাকলে আম চাষি সহ ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবেন।

শরীয়তপুর থেকে আসা আম ব্যাপারী আনোয়ার হোসেন বলেন, গত বছরেও সাপাহার বাজারে আম কিনেছি। এবছরেও কিনতে এসেছি। এখানকার আম স্বাদে ও মানে-গুণে ভালো হবার ফলে বাইরে চাহিদা বেশি। এখান থেকে আমরা মণ দরে আম কিনে বাইরে এলাকায় আমরা কেজি দরে বিক্রি করি। যাতে অনেকটাই লাভবান হতে পারি। তবে এবছরে আমের দাম বেশি। আমদানি বেশি হলে হয়তো দাম কমতে পারে।

চলতি বছরে শুরুতেই যেমন আমের ভালো দাম পাচ্ছেন আম চাষিরা । এই ধারা অব্যহত থাকলে আমের নির্ধারিত গড় মূল্য ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা অভিজ্ঞ মহলের।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে পাওয়া সূত্রে জানা যায়, এবছরে সাপাহার উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫হাজার মেট্রিকটন।

Comments are closed.