মোড়ে মোড়ে লাঠিসোটা নিয়ে আ.লীগ, কেন্দ্রে ঢুকতে পারেনি ভোটার-এজেন্টরা: রিজভী

107

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, ‘আজ ঝিনাইদহ জেলার মহেষপুর ও চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়াতে উপজেলা নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোটারদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। মহেষপুরে প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্র থেকে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে এবং রাস্তার মোড়ে মোড়ে লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। একই অবস্থা সাতকানিয়াতেও। এই দুই উপজেলাতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সাথে পাল্লা দিয়ে পুলিশও ভোটারদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিচ্ছে।’

সোমবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, ‘এই দুই উপজেলায় ভোটের নামে প্রকাশ্যে ভোট জালিয়াতির উৎসব শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে এই বিষয়ে অবহিত করলে তারা ‘দেখছি’ বলে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। যারা ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতের নির্বাচন করে তাদের কাছ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা অরণ্যে রোদন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সরকারের যাদুর বাক্সে পরিণত হয়েছে। তারা দিনের নির্বাচন রাত্রে করে এবং ভোটার তালিকায় জীবিত মানুষকে মৃত দেখায়।’

তিনি বলেন, ‘বিগত নির্বাচনগুলোতে যে সমস্ত ভোটাররা জাতীয় নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ভোট দিয়েছে তাদেরকে ভোটার তালিকায় এখন মৃত দেখানো হচ্ছে। এই যাদুকর প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনারদের অধীনে নির্বাচনে প্রকৃত ভোটারদের ভোট দেয়ার অধিকার নেই।’

রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন- ‘এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে’। যদি তাই হয় তবে ভোটারদের ভোট দিতে না দেয়া কি ‘সুনীতি’? এটাতো এক মহাদুর্নীতি। পুলিশ ও সরকার দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে দিনেদুপুরে ভোট জালিয়াতি করা মহাদুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ। আর এই মহাদুর্নীতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে বুক ফুলিয়ে বিগত ১০/১১ বছর যাবত করে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা।’

তিনি বলেন, ‘দু-একজন চুনোপুঁটিকে ধরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান বলে না। বরং এই অভিযানের নামে বড় বড় দুর্নীতিকে আড়াল করা হচ্ছে। উন্নয়নের নামে গত ১০ বছরে যে অসংখ্য দুর্নীতির গুপ্তধন তৈরি হয়েছে সেগুলো উদ্ঘাটন করা দূরে থাক বরং সেগুলোকে পাহারা দেয়া হচ্ছে।’

রিজভী আরও বলেন, ‘অপরাজনীতি, সন্ত্রাস-দুর্নীতি ও রক্তপাতের অজুহাতে সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দেয়াটা গভীর মাস্টারপ্লানেরই অংশ। ছাত্র রাজনীতিকে যারা কলুষিত করেছে, মারামারি-দলাদলিকে যারা উৎসাহিত করেছে, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারে যারা মদদ দিয়েছে তারাই প্রকৃত ছাত্র রাজনীতিকে মানুষের চোখে হেয় করেছে। তারাই এখন সমগ্র ছাত্র রাজনীতিকে বন্ধ করে দিতে চাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রসমাজ জনগোষ্ঠীর আলোকিত সম্প্রদায়, তারা আলোকদীপ্ত চোখে রাষ্ট্র ও সমাজে অনাচারগুলো চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। যুগে যুগে এই ছাত্রসমাজই অন্যায়-অসাম্য-অবিচারের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের শরীরের রক্ত ঝরিয়ে ভাষার অধিকার থেকে শুরু করে স্বাধিকার, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এরা নির্যাতিত জনগণের ভ্যানগার্ড হিসেবে রাজপথে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে গেছে। ছাত্রসমাজের সেই মহিমামণ্ডিত ঐতিহ্য ম্লান করেছে বর্তমান ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী।’

রিজভী বলেন, ‘স্বাধীনতার পরপরই ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও শহীদ মিনারে ছাত্রী লাঞ্ছনার মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগ তাদের যাত্রা শুরু করে। তাদের উত্তরসূরিরাই বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে হলে হলে প্রচলিত বিধিবিধানকে তোয়াক্কা না করে নিষ্ঠুর ও সর্বনাশা নির্যাতন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে সরকারের ছত্রছায়ায়। হলে হলে টর্চার সেল গঠিত হয়েছে। একের পর এক ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগ দ্বারা শিক্ষার্থী খুনের ঘটনা ঘটছে। এর ভয়ঙ্করতম রূপ দৃশ্যমান হলো মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। তাকে মারধরের খবর পেয়ে একজন পুলিশ উপ-পরিদর্শক সেখানে ছুটে গেলে ছাত্রলীগ নেতাদের বাধার কারণে তিনি কিছুই করতে পারেননি। ছাত্রলীগকে এই কয়েক বছরে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে তারা কোনও এথিকসের ধার ধারেনি। এই কদাচারের জন্য সমগ্র ছাত্রসমাজ বা ছাত্র রাজনীতি দায়ী হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের নিকট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক তথা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরঙ্কুশ আনুগত্যের কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন-কানুন, বিচারের তোয়াক্কা করছে না ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন। তাদের দৌরাত্ম্য ও উপদলীয় হানাহানির কারণে সমগ্র ছাত্র রাজনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে একটি নৈতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবেই তৈরি করেছে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠি।’

রিজভী বলেন, ‘আত্মসম্মানহীন একটি নিপীড়ক সংগঠন ছাড়া ছাত্রলীগ আর কিছুই নয়। তাদের কৃতকর্মের জন্য বহু শতাব্দির ‘একাডেমিক ফ্রিডম’সহ বহু মুক্তি আন্দোলন-সংগ্রামের পথিকৃত গোটা ছাত্র সমাজকে ছাত্র রাজনীতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো ঠিক নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা মীর সরাফত আলী সপু, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

x