যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বাইডেনকে সমর্থন জানালেন জার্মান চ্যান্সেলর

0 ২০৭
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (বামে) ও জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ। রয়টার্সের ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের আগামী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যোগ্য প্রার্থী বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ। সোমবার (২২ মে) বার্লিনে স্কুলশিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনার সময়ে জার্মান চ্যান্সেলর এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের আগামী নির্বাচনে জো বাইডেনের জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন তিনি৷

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন, তখন বিষয়টি নিয়ে দেশে-বিদেশে যথেষ্ট বিতর্ক হয়েছিল৷ ‘আব কি বার, ট্রাম্প সরকার’ বলে মোদি ভারতের স্বার্থের ক্ষতি করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল৷ বিশেষ করে ট্রাম্পের পরাজয়ের পর জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ায় ভারত কিছুটা অস্বস্তির মধ্যে পড়েছিল৷ তবে শেষ পর্যন্ত ওই কারণে বিশ্বের প্রথম সারির দুই গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে সম্পর্ক ধাক্কা খায়নি৷ আগামী জুনে মোদি রাষ্ট্রীয় সফরে ওয়াশিংটন যাচ্ছেন৷ গত বছরও ট্রাম্প মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।

জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ অতি সতর্ক রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত৷ তাঁর মুখে বেফাঁস মন্তব্য সহজে শোনা যায় না৷ অথচ সেই শলৎজ এবার খোলাখুলি যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের প্রতি সমর্থন জানালেন৷ বার্লিনের কাছে একটি স্কুল পরিদর্শন করতে গিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন৷ সে সময়ে শলৎজ বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট হলে সেটা শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, জার্মানির জন্যও খারাপ হবে৷ বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাইডেন দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন৷

সোমবার স্কুল শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে ওলাফ শলৎজ বলেন, “বাইডেন বহু বছর ধরে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন৷ তাই বিশ্বকে যুদ্ধ থেকে দূরে রাখতে কী করা উচিত, সেটা তিনি বিলক্ষণ জানেন৷”

ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের কার্যকাল অন্য অনেক দেশের মতো জার্মানির জন্যও যথেষ্ট কঠিন ছিল, সে বিষয়ে কোনো সংশয় নেই৷ জার্মান চ্যান্সেলর হিসেবে এঙ্গেলা মার্কেলকে সেই ধাক্কা সামলাতে হয়েছে৷ তাঁর জোট সরকারের অর্থমন্ত্রী ও ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে শলৎজ সেই চার বছরের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন৷

ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা সম্পর্কে জার্মান চ্যান্সেলর শলৎজ বলেন, “সব মানুষ একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেলে ভবিষ্যৎ মোটেই উজ্জ্বল হতে পারে না৷ সাবেক প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড ট্রাম্প) ওই দেশে বড় বিভাজনের প্রতীক৷”

শলৎজ জার্মানিতেও এমন বিভাজন সম্পর্কে সতর্ক করে দেন৷ তাঁর মতে, সমাজে ঐক্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি৷

২০২৪ সালের নভেম্বরে বাইডেনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের মনোয়ন পাবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়৷ রন ডিসান্টিস ও অন্যান্য কয়েকজন প্রার্থী ট্রাম্পের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন৷ সর্বশেষ জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, বাইডেন দুই সম্ভাব্য বিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় এখনও বেশি সমর্থন পাচ্ছেন৷ বাইডেন ইতোমধ্যেই দ্বিতীয়বারের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা করেছেন৷

জো বাইডেনের নেতৃত্বে আটলান্টিকের দুই প্রান্তের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও ঐক্য আরও জোরদার হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সংশয় নেই৷ বিশেষ করে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার পর থেকে সেই ঐক্য জোরদার হয়েছে৷ তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ দেখিয়ে বাইডেনও ট্রাম্পের মতো বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ইউরোপের ক্ষোভের পাত্র হয়েছেন৷ তা সত্ত্বেও ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে ইউরোপীয় নেতারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন৷

Leave A Reply

Your email address will not be published.