১২ ও ১৩ এপ্রিলেও চলমান বিধিনিষেধ থাকবে : ওবায়দুল কাদের

0 99
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি : সংগৃহীত

নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমাতে চলছে সরকারের দেওয়া দেশব্যাপী ‘কঠোর বিধিনিষেধ’। এই বিধিনিষেধ শেষ হচ্ছে আজ রোববার। আর, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হবে এক সপ্তাহের অপেক্ষাকৃত কঠোর ও সর্বাত্মক লকডাউন। তাহলে ১২ ও ১৩ এপ্রিল কী হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, চলমান বিধিনিষেধের ধারাবাহিকতা আগামীকাল সোমবার (১২ এপ্রিল) এবং পরদিন ১৩ এপ্রিলও অব্যাহত থাকবে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ রোববার সকালে তাঁর সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এ ছাড়া ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহণ বন্ধ থাকবে।

 

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে শেখ হাসিনা সরকার সর্বাত্মক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এ ধারাবাহিকতায় সরকার লকডাউন ঘোষণা করে। তিনি বলেন, ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন, এ সময় জরুরি সেবা ছাড়া সবাইকে ঘরে অবস্থান করতে হবে আমাদের বৃহত্তর স্বার্থে।’ প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ সরকার সময়মতো প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

 

সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীকাল সোমবার ও পরশু মঙ্গলবার যথারীতি শুধু দেশের সিটি করপোরেশন এলাকায় শর্তসাপেক্ষে সমন্বিত ভাড়ার অর্ধেক আসন খালি রেখে গণপরিবহণ চলবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহণ বন্ধ থাকবে।’

 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দেশের মানুষকে এই সংকটকালে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন,  ‘স্বাস্থ্যবিধির প্রতি সামান্য অবহেলা আমাদের চিরচেনা জীবন থেকে ছিটকে দিতে পারে। হয়ে যেতে পারে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজনের এই মায়াময় পৃথিবী অচেনা।’

 

‘জীবনের পাশাপাশি জীবিকার চাকা সচল রাখতে আমাদের আস্থার ঠিকানা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখুন, ভরসা রাখুন স্রষ্টার প্রতি’ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সবার প্রচেষ্টা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিশ্চয়ই এ মহামারি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে আবারও ফিরবে পৃথিবী নিজ রূপে’

 

‘আওয়ামী লীগ নিজস্ব ইতিহাস তৈরি করছে’— বিএনপির নেতাদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নিজস্ব ইতিহাস তৈরির কোনো কারখানা নেই, আওয়ামী লীগ ইতিহাসের মীমাংসিত সত্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং এর চর্চা অনুসরণ করে।’

 

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার পূর্বাপর ইতিহাস বিকৃতিভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ককে বাদ দিয়ে খণ্ডিত ও বিকৃত ইতিহাস রচনা করতে চেয়েছিল।’

 

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ইতিহাসের নায়কদের বিএনপি ভিলেনে রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা করেছিল। তারা স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠককে ঘোষক বানাতে চেয়েছিল। ইতিহাসের ফুটনোটকে তারা ইতিহাসের নায়ক বানাতে চেয়েছিল।’

 

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হাতের তালু দিয়ে যেমন সূর্যকে ঢাকা যায় না, তেমনই স্বাধীনতার ইতিহাসও আজ স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল।’

 

যারা ইতিহাসের পায়ে শিকল পরিয়েছিল, আজ তাদের স্বরূপ উন্মোচিত হচ্ছে বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘তাই তো তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শুরু করছে পুরোনো খেলা এবং চর্চা করছে অগণতান্ত্রিক পথ।’

 

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনগণ এখন স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ বিনষ্টের বিরুদ্ধে সজাগ রয়েছে।’

 

এর আগে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের (বিআরটিসি) ২৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী জন্য তিন কোটি টাকার গ্র্যাচুইটি প্রদান এবং মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

 

এসময় সেতুমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিআরটিসিকে এগিয়ে নিতে এর বহরে সহস্রাধিক বাস ও ট্রাক সংযোজনসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।’

 

ওবাদুল কাদের আরও বলেন, ‘এখন প্রয়োজন বিআরটিসির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা দক্ষতা উন্নয়ন।’

 

এ ছাড়া সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে শেখ হাসিনা সরকার ঢাকাসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকাধীন সড়কে শর্তসাপেক্ষে গণপরিবহণ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ এ সময় তিনি বিআরটিসিসহ পরিবহণ মালিক শ্রমিক সংগঠনগুলোকে সরকারি নির্দেশনা মেনে পরিবহণ চালানোর অনুরোধ জানান।

 

আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য ‘সর্বাত্মক লকডাউনের’ পথে হাঁটবে সরকার। এই এক সপ্তাহের মধ্যে জরুরি সেবা ব্যতিত অফিস-আদালত থেকে শুরু করে সব কার্যক্রম বন্ধ রাখবে সরকার।

 

এর পরই প্রশ্ন ওঠে, সর্বাত্মক লকডাউনের আগের দুদিন অর্থাৎ ১২ ও ১৩ এপ্রিল কী হবে? মানুষ ইচ্ছেমতো চলাচল করতে পারবে, নাকি পারবে না? দূরপাল্লার বাস চলবে, নাকি চলবে না? শুধু তাই নয়, যেহেতু ওই দুদিনের জন্য এখন পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ বা সর্বাত্মক লকডাউনের কথা ঘোষণা করেনি সরকার; সেহেতু সব মুক্তভাবেই চলবে নাকি নতুন করে বিধিনিষেধ জারি করা হবে—এসব প্রশ্নও ওঠে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

 

এমন বাস্তবতায় আজ রোববার সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, চলমান বিধিনিষেধের ধারাবাহিকতা চলবে ১২ ও ১৩ এপ্রিল।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x